বিমানের টিকিট! অবশ্যই নিজে কাটবেন। কিভাবে?

S M Sarwar Nobin
3 min readAug 3, 2019

আমাদের সবারই নিজের বা আত্নীয় স্বজনের প্রায়ই বিমান ভ্রমণ করতে হয়। এজন্য প্রায়ই এজেন্ট বা মধ্যসত্ব ভোগীদের শরণাপন্ন হতে হয়। আজকের ব্লগটাতেই আমি দেখাব কি করে নিজে থেকে টিকিট কাটতে হয়।

গত ২৫ শে জুলাই আমি ঢাকা থেকে দিল্লী যাই হঠাৎ করেই। প্রায় ১ দিন আগের পরিকল্পনায় একটা কনফারেন্সে যোগ দিতে যাই। আমার ভারতে ভিসা আগেই ছিল তাই আমার চিন্তা ছিল না। বলা প্রয়োজন আমি studentuniverse.com থেকে প্রায়ই নিজের কার্ড ব্যবহার করে অন্যদের টিকিট করে দিতাম। এর বিনিময়ে ডলারে কিছু লাভও করি। এবছরই এ ব্যবসাটা শুরু করেছি। তবুও নিজের প্রথম টিকিট করতে যেয়ে একটা ভুল করে বসলাম! আজ সে গল্পটাই বলব কি ভুল ছিল সেদিন।

সেদিন ছিল ২৪ জুলাই। যথারীতি আমার কার্ডে ডলার ছিল। আমি নিশ্চিন্ত মনে cheapoair.com ঢু মারলাম। আমি DAC — DEL লিখে সার্চ করলাম। বেশ 214 USD তে পেয়ে গেলাম। আমি তাকাতাকি না করে কার্ড দিয়ে আরামেই টিকিট কেটে বসলাম। আমার টিকিট টি ছিল এমন:

Air ticket for me.

এখানে ২ টা ভুল করে বসি।
১। অটো লগইন দেওয়াতে Gmail থেকে আমার নাম S M Sarwar Nobin নিয়ে নেয় কিন্তু আমার নাম পার্সপোর্ট এ S M Sarwar। এটা সাথে সাথেই খেয়াল করি। পরে Indigo এর সাপোর্ট এ কথা বলে ঠিক করে নিলাম।
২। তারিখ দুটো দেখুন। ২৫ শে সেপ্টেম্বর — ৩০ শে সেপ্টেম্বর আসলে কি হবে? ২৫ শে জুলাই — ৩০ শে জুলাই! বড় ভুল করে ফেলি।

যথারীতি আমি ব্যাগ পত্র গুছাইয়ে এয়ারপোর্টে যাই। যেয়ে Check-in করব তারা আর খুঁজে পায় না! পরে দেখে তারিখে গোলমাল! আমাকে পরে আরও 174 USD বেশি দিয়ে টিকিট করতে হল। যাক অবশেষে যেতে পারছি।

সে দিনের ভুল হওয়ার কারণ:-
১। তাড়া ছিল ঢাকা যাওয়ার একটা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে।
২। খুব তাড়াতাড়ি করছিলাম। ৫ মিনিটে টিকিট কাটছিলাম প্রায়।
৩। প্রথম বার নিজে নিজে কাটছিলাম তাই আলাদা একটা ফিলিংস ছিল।

তাই টিকিট কাটার কত গুলো বিষয়ে অবশ্যই খেয়াল রাখবেন।
১। নাম। ফাইনাল পেমেন্ট এর আগে চেক করে নিবেন বার বার।
২। কোন তারিখে যাবেন তা বার বার দেখে নিবেন।
৩। এয়ারপোর্ট। কোনটায় যাচ্ছেন তা দেখে নিবেন।
৪। একই এয়ারলাইন ব্যবহার না করলে তারা Baggage অটো পরের Airline এ দিয়ে দিবে কিনা তা জেনে নিবেন।
৫। ট্রানজিট এরিয়াতে কোন ভিসা লাগবে কিনা তাও জেনে নিবেন। International — Domestic এ যেতে সব এয়ারপোর্টেই ভিসা লাগবেই। International — International হলে Baggage Check in এর ব্যাপারে সর্তক থাকবেন।
৬। কার্ড — আমাদের প্রায় সবারই Master/Visa Card আছে কিন্তু সেগুলো দিয়ে পেমেন্ট করা যায় না। কারণ গেটওয়ে ওপেন না। এজন্য EBL Aqua বা কিছু ব্যাংকের কার্ড আছে আপনি ব্যবহার করতে পারেন। আমি কখনও ব্যবহার করি নাই।

আমি কি ব্যবহার করি?
- আমি Payoneer (payoneer.com) ব্যবহার করি। এটা বার্ষিক ফি ৩০ ডলার প্রায়। আর এখন ফ্রিতে কার্ড দেয় না। আগে দিত। এখন ১০০ ডলারের মত ভরতে হয় আগে কোন মার্কেট থেকে। তবে Payoneer এ কোন লিমিট নাই। হাজার হাজার ডলার ভরা যায়। পৃথিবীর সব জায়গাতেই কাজ করে। কোন চিন্তাই নাই! তবে নিজের কার্ড না থাকলে আশে পাশে আমার মত অনেক Extra Oridinary পোলাপান আছে তাদের কাছে আছে। তাদের থেকে সাহায্য নিতে পারেন।

আমার মনে পড়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় গুলশানের রাস্তার ধারে এক দোকানে গিয়েছিলাম। আমাকে বলেছিল তাদের নাকি বিমান ভাড়া বাদ দিয়েই ১০০০ টাকা দিতে চার্জ হিসাবে! ভাবুন একবার! আম জনতাদের তারা কি মুরগী বানায়!

তবে আশার কথা হল বাংলাদেশে বেশ কিছু সাইট আছে যেখান থেকে আপনি দেশিও কার্ড ব্যবহার করেও টিকিট করতে পারবেন। Gozayaan.com, Flightexpert.com, travelbookingbd.com এরকম আরও কিছু সাইট আছে যেখান থেকে আপনি নিজের টিকিট নিজেই করতে পারবেন। এসবে অনেক ছাড়েও টিকিট পাওয়া যায় মাঝে মাঝে।

বিদেশে বিশেষত North America/ Europe রুটের টিকিটের জন্য Studentuniverse.com অনেক ভালো সাইট। South Asia, Southeast Asia এর জন্য expedia.com, cheapoair.com, cheapflights.com এ রকম আরো কিছু সাইট আছে। আমি সব গুলোতেই দাম চেক করি।

এমনকি আপনি Airline এর বাংলাদেশি অফিস বা সাইট থেকেও নিজে নিজে গিয়ে টিকিট কাটতে পারেন। একটু Google এ সার্চ করলেই Airline এর বাংলাদেশি অফিস এর ঠিকানা পাবেন। বাংলাদেশ থেকে ছাড়ে এমন সব Airline এরই বাংলাদেশি অফিস আছে।

তবুও আপনি যদি একবারেই প্রথম বার বিদেশে ভ্রমণ করেন তাহলে দক্ষ কারও সাহায্যই নেওয়া উত্তম। আর নিজে নিজে করলে অনেক টাকা সাশ্রয় হয়।

শুভ হোক সবার বিদেশ ভ্রমণ :)

--

--

S M Sarwar Nobin

Graduate Research Assistant at UTRGV, USA and Freelance Email Signature Developer